কিশোরী কন্যা – মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২০

(কিশোরী কন্যা)-কোনো শিক্ষক প্রয়োজন নেই। এই যেমন ধর তোমার কোনো বান্ধবী ফিজিন্তু ভালো পারে, আবার কেউ ম্যাথ কিংবা বায়োলজি, যাই হোক না কেন, তুমি তাদেরকেও শিক্ষক ভাবতে পার। তাদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখতে পার, জানতে পারো। বড় বিষয় হচ্ছে আমরা পৃথিবীর সকলেই শিক্ষার্থী! আমরা প্রতি নিয়তই শিখছি। কিশোরী কন্যা)এক জন শিক্ষার্থীকে শেখার ক্ষেত্রে নিজেকে কখনো ছোট ভাবলে চলবে না।

কেমন ছেলেরে বাবা! আমার দিকে একটু তাকাতেও ইচ্ছে হয় না। কোথায় মন

খুলে তার সাথে দু’চারটে কথা বলব। সে কী না আমার কথাগুলো গ্রহণ করে – এ

প্লাস বি এর হোল স্কয়ারের সূত্রে ফেলে আমার সকল কথা সমাধান করে চলে যায়।

কিশোরী কন্যা - মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২০
কিশোরী কন্যা – মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২০

কিশোরী কন্যা

পুরাই বাইন মাছ! কাঁদার মধ্যে থেকে কাঁদা মাখতে চায় না। তিনি ফিজিক্স বইটি খুলে আমাকে বিভিন্ন গাণিতিক সমস্যা সমাধান করানো শুরু করেন। অবশ্য আমার একটা ব্যামো আছে আমি এই ফিজিক্সে ফেল না করা পর্যন্ত আর ভালো করে বুঝছি না। তবে মাস্টার সাহেবের যে চেষ্টা তাতে ফেল করতে পারব কী না তা নিয়েও আমার বেশ সন্দেহ আছে।

আরে বাবা ফিজিক্স পড়েই কী সময় নষ্ট করব? এখনও বায়োলজি পড়তে বাকী। বাবা-মার বড্ড শখ বড় ডাক্তর হব ছাই।

আমার আবার পড়াশুনার ধৈর্য্য নাই। আমি এত পড়া-শুনা করতে পারব না। এখনও পড়তে পারলে ভালোই হত। সেটার আর আছে। কিন্তু মাস্টারের দম হলে আমাকে বায়োলজি পড়তেই হবে। বায়োলজি পড়ার কথা মাথায় আসতে না আসতে যে চিন্তা বসে দূর করতে কয়েক দিন চলে যায়। বোঝেনই তো এ বয়েসের মেয়েদের বিষয়টি কেমন মনে পারে। মাঝে শীতল যেন উষ্ণ হয়ে যায় লোমকূপ যেন অতিশয় দাঁড়িয়ে যায়। নিশ্বাসেরও

‘সাহানা, পড়ার আমি কিছু কথা বলতে চাই নাম্বার ওয়ান এখানকার বিষয়গুলো কোনোভাবে অন্য দৃষ্টিতে নেওয়া চলবে না। কারণ আমরা জানার জন্য পড়ছি। নাম্বার টু লজ্জিত হওয়া করা না। ‘আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনি যেমনটি বলবেন।’

‘তাহলে আজকে আমরা পড়ব- জননতন্ত্র বা রিপ্রোকাডটিভ সিস্টেম আর প্রাণী কোষের বিভিন্ন গঠন। এই প্রজননের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রাণী ভারসাম্য টিকে আছে। মানুষ এক লিঙ্গ বিশিষ্ট প্রাণী। নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছে মানুষ তার মতো শিশু বা সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ গ্যামেট কিংবা শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মাধ্যমে মানুষ নতুন শিশুর ভ্রুণ জন্ম দেয়। এক্ষেত্রে পুরুষ মানুষের দেহে থাকে পুরুষ প্রজননতন্ত্র আর স্ত্রীলোকের দেহে থাকে স্ত্রী প্রজননতন্ত্র………

তিনি যখন বায়োলজি ব্যাখ্যা করে পড়াচ্ছিলেন তখন রিতি মতো ঘামতে ছিলেন। তাঁর মুখ খানাও যেন রক্তিম হয়ে যায়। আমিও নিস্তব্ধ হয়ে শুধু শুনতে ছিলাম। কোন দুনিয়ায় ছিলাম তা আমি নিজেও জানি না। পরানটা বেশ কাঁপছিল। আমি নিজে কোনো কিছু না বুঝলেও লজ্জায় আর তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। এমনকি তিনি যখন আমাকে পড়িয়ে আমার কক্ষ থেকে চলে যান আমি তার দিকে ফিরেও তাকালাম না। বোধহয় তিনি আমাকে বায়োলজি পড়িয়ে বিশাল কোনো

অপরাধ করে ফেলেছেন। বেশ রাত হয়েছে! বাসার সকলে ঘুমুচ্ছে। আমি বালিসে মাথা দিয়ে শুধু এপাশ ওপাশ করছি।

দূর ছাই! আমারও নাইনে উঠে লঙ্কা-সরম বেশ কমে গেছে। আজ শৌভিক ভাইয়ার কাছে কিছুতেই জীববিজ্ঞান পড়া ঠিক হয়নি। না-জানি তিনি আমাকে কী ভেবেছেন। বাতি না জ্বালিয়ে ডাইনিং কক্ষ থেকে গ্লাসে করে পানি নিয়ে আসি। আমি যেকিশোরী কন্যা)

এখনও ঘুমাইনি আম্মু বুঝতে পেরেছেন। তিনি আমাকে বলেন, ‘এখনও ঘুমাও নি।’

‘না, আম্মু ঘুম আসছে না। আর একটু পড়াশুনা করে তার পরে ঘুমাবো। ‘জলদি ঘুমিয়ে পড়। সকালে স্কুল-কোচিং আছে। তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে।’

আম্মু কী ভেবেছে তা ঠিক বলতে পারব না। তবে আমি যে পড়াশুনার জন্য জেগে আছি তা শুনে হয়তো তিনি খুশি হবেন। কারণ ঘুমের সাথে তো আমার ভালো সখ্যতা ছিল কিন্তু ইদানিং কেন যেন আমার ঘুম একটু কম হচ্ছে। আমার ভিতরকার অবস্থা কেবল আমার মাঝেই রাখতে হচ্ছে। বাসার কারো কাছে তো এটি শেয়ার করার কোনো উপায় নেই। বড্ড শূন্যতায় ভুগছি।

কক্ষের ডিম লাইট টা কেটে গেছে। লাইটের আলোতে ঘুম আসছে না আবার অন্ধকারেও খুব ভয় করে। মনেহয় কোনো মানুষের অবয়ব আমার খাটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সে যেন আমাকে অস্ফুট কণ্ঠে তাঁর কাছে ডাকছে। আমি কেঁপে উঠি!

মাথাটা কাঁথার মধ্যে লুকিয়ে ফেলি। হাতের কাছের কোল বালিস টা খুব কাছে টেনে নেই। খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরি। ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিতে থাকি। মনে হচ্ছে শরীরটা বড্ড ঘেমে গেছে। কিশোরী কন্যা)মাথার উপর থেকে কাঁথা খানা সরিয়ে উঠে বসে পড়ি। পাশের টেবিল ল্যাম্পটি জ্বালাই। কোথাও কিছু নেই। দুর ছাই এসব আমার কল্পনা। লাইট টা বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ি।

ঘড়ির টিক টিক আওয়াজ হচ্ছে। রাত ফুরিয়ে যায়। চারিদিকে সকালের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। বাসার সকলেই উঠে পড়েছে। কেবল আমিই বাকি। বাবা ডাকছেন। আমিও ঝটপট উঠে পড়ি। আম্মুর পরোটা ভাজার ঘ্রাণ আমার নাকে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। দৌঁড়ে বাথরুমে যাই, নাস্ত করে স্কুলে যেতে হবে!

তিথি, অনামিকা দু’জনই এসেছে। মাঠের পূর্ব পার্শ্বে মেহেগুনি গাছের নিচে বসে গল্প করছে। কী যে গল্প পেয়েছে?

নতুন কোনো গল্প তৈরি হচ্ছে না। সেই একই গল্প!কিশোরী কন্যা)

কোন ছোকরা ওদের পিছু পিছু ঘোরে। ওদের বয়-ফ্রেন্ড ওদেরকে কী বলেছে?

কী গিফট দিয়েছে? এমনকি তাদেরকে তাদের বয় ফ্রেন্ড মোবাইলে কয়টা কিস দিয়েছে সে গল্প তুক্তি করতে হয়। বলুন দেখি কী সব বিশ্রী ব্যাপার সেপার। আমি ওদের এই ফালতু গল্প শুনতে শুনতে পুরো ফেড-আপ হয়ে গেছি। করব? এ

যেন অনুরোধে ঢেকি গেলার মত। কিছু বললে তো ওরা বলে, ‘তোর না, খুব ভাব বেড়েছে। নিজের তো কপালে জুটছে না! আবারকিশোরী কন্যা)

আমাদের টা নিয়ে মাথা ঘামাতে আসছিস।’ ঐ দেখ আমাকে বলতে হবে না! ঝালমুড়ি ওয়ালা কিভাবে তিথির দিকে তাকিয়ে আছে। দেখছে! খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে! একেবারে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখছে।

‘দেখলে দেখুক গা! ওরই পেট খারাপ হবে। রাতে আবার প্যান্টও নষ্ট হতে পারে। আমার খুব বয়েই গেছে। … আর তুই বুঝি ছেলেদের আর দেখিস না! তুই ছেলেদের কোথায় কোথায় তাকাস তা আমি জানি। এই লোক সম্মুখে বলে তোর আর মান সম্মান ক্ষুন্ন করতে চাই নে।” ‘দেখ অনামিকা! …..কিশোরী কন্যা)তিথি! তোদের সাথে আমি আর চলতে পারছি না। তোরা বড্ড বেড়েছিস।’

‘আমাদের সাথে আর চলা যাচ্ছে না! কত বার বললাম একটা প্রেম কর। আমরা পর্যন্ত খুঁজে দিতে চাইলাম! বুঝি, বুঝি! আমরা সব বুঝি। ওসব আর বলতে চাই নে।’কিশোরী কন্যা)

তিথি আর অনামিকা তর্কবাজির ওস্তাদ! ওদের স্কুলে পড়া উচিত হয়নি বরং কোনো কোর্ট-কাচারিতে উকালতি করার দরকার ছিল। ওদের সাথে তর্ক থেকে বিত থাকাই শ্রেয়। এরকম গলাবাজি মেয়ে দেখলে আমার বাবার কথা খুব স্মরণ হয়। বাবা বলেছেন, যে তোমার কথা মানবে না, তাকে তুমি যুক্তি-তর্ক দিয়ে তোমার কথা

শুনানোর চেষ্টা করো না। বরং তার কাছে হার মানাটাই শ্রেয়।

অবশেষে বাবার কথাটাই মেনে নিলাম। বাবার কথাগুলো মাঝে মাঝে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। হয়ত তিনি খুব কাছের মানুষ তাই তাঁর কথা আমার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হত।কিশোরী কন্যা) তর্ক-বিতর্ক যাই হোক ওদের সাথে রাগ করার কোনো উপায় নেই। টিফিন পিরিয়োডে আমরা একসাথে মন্টু মামার দোকানে ফুচকা-চটপটি খেতে যাই।

এস.এস.সি পরীক্ষা দু’বছর পরে হলেও মাথায় পড়াশুনার বেশ প্যারা রয়েছে। স্কুল শেষে প্রতিদিন দু’টি ব্যাচে পড়তে হয়। বিকেলে বাসায় ফিরে দেখি মিলি আপু এসেছে। অনেক দিন পর দেখা হলো। আপুর সাথে মাঝে মাঝে কথা হয়। কিন্তু পড়াশুনার ঝামেলায় অনেক দিন হলো

খালা মনিদের বাসায় যাওয়া হয়নি। মোবাইল ফোনে মাঝে মাঝে কথা হতো।

আপুর মেয়ে টুকটুকি আমাকে দেখে আন্টি বলে চিৎকার দেয়।কিশোরী কন্যা)

বড্ড পাকা মেয়ে! যাক ওদের দেখে মনটা ভরে গেল। মনে হচ্ছে, আজ দিনটা হয়তো ভালোই কাটবে। স্কুলে সময়টা আজ মোটেও ভাল যাইনি। বান্ধবীদের সাথে বাদ-বিবাদ করে আমার মন যতটুকু খারাপ হয়েছিল টুকটুকিকে দেখে আমার মনটা তার থেকে দশ গুণ ভালো হয়ে গেল।

তবে পোশাক পরিবর্তনের পূর্বেই, সে আমার কাছে গল্প শুনার বায়না ধরে বসে আছে। তাকে কিন্তু আবার বানিয়ে বানিয়ে কোন গল্প বললে চলবে না। বড় চালাক মেয়ে! সব বুঝতে পারে।কিশোরী কন্যা)

মিলি আপুর সেই পুরানো ব্যধি এখনও যায়নি। দুলাভাইয়ের সাথে মোবাইলে – পটপট করে কথা বলা। তিনি যখন ভাইয়ার সাথে কথা বলা শুরু করেন তখন তার দিন-দুনিয়ার কোনো কিছুই ক্ষ্যাল থাকে না। কিশোরী কন্যা)রাতে মিলি আপুর সাথে অনেক কথা হল। সকালে মিলি আপুকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাবন ভাইয়া এসেছেন। তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,

Leave a Comment