কিশোরী কন্যা – মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২১

(কিশোরী কন্যা)“শীতকালে, গ্রামে গেলে কিন্তু আমাকে বল্লা না। আবার পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করেও জানালে না। তুমি ই বল কতগুলো অপরাধ করেছ। এ কাজগুলো কিন্তু ঠিক হল না।”

‘দেখেন ভাইয়া, পা পাড়িয়ে ঝগড়া করবেন না। আমার পরীক্ষার ফলাফল দেওয়ার সাথে সাথে, আম্মু আন্টিকে ফোনে জানিয়েছেন। আর আপনাকে তো শত আসতে বললেও বেড়াতে আসেন না। আপনার একাজ থাকে ও-কাজ থাকে। আপনার মতো বিজি মানুষকে কী আমরা আশা করতে পারি।যাকগে, আমার সাথে ঝগড়া করে আপনার লাভ নেই। এবার বলুন খালামনি কেমন আছেন?’ ‘তুমি আছ শুধু খালামনির চিত্তে নিয়ে। আমি এত কষ্ট করে এসেছি তার

কিশোরী কন্যা - মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২১
কিশোরী কন্যা – মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২১

কিশোরী কন্যা

কোনো খোঁজ খবর নেই… কোথায় আমাকে বসতে বলবে, কিছু জল খাবারের ব্যবস্থা করবে… ভাইয়ার কথা শেষ হতে না হতে আম্মু ভাইয়াকে ডাকছেন। তিনি আমার সাথে কথা শেষ না করেই ড্রইং রুমে চলে যান। আমি তড়িঘড়ি করে স্কুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাই।

ভাইয়া মিলি আপুকে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন কিন্তু আমার অনুরোধে আপু আমাদের বাসায় কিছু দিন থাকতে রাজি হয়েছেন। ঘরের মধ্যে কথা বলার কোনো মানুষ

নেই। তিনি থাকলে অন্তত তার সাথে মন খুলে কথা বলা যাবে।

 নবম শ্রেণীতে উঠেছি বছরের ছয় মাস হয়ে গেল। এদিকে শৌতিক ভাইয়াও তার দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশুনার ছয় মাস শেষ করেছেন। তিনি অবশ্য আগের মতো নেই।

অনেকটা পরিবর্তন হয়েছেন। যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সংগঠনে। লেখা-পড়ার পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। যেমন ধরুন আঞ্চলিক সংগঠনের জুনিয়র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানের মিটিং এ অংশ গ্রহণ করতে হয়, এছাড়াও রয়েছে নানাবিদ কার্ম-কাণ্ড। আমার পড়ার ক্ষেত্রে সপ্তাহে দুই দিনের বেশি সময় দিতে পারেন না।(কিশোরী কন্যা)

এটা নিয়ে তো আম্মু রীতিমত মনে মনে বেশ রেগে আছেন। অবশ্য এ বিষয়টি

শৌতিক ভাইয়া কিছুটা বুঝতে পারেছেন। বাবা অবশ্য তেমন কিছু বলনে না কারণ তিনি নিজেই ছাত্র জীবনে বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠে জড়িত ছিলেন। বাবা আম্মুকে বলেন, ‘জানো লতা! শৌভিক অনেক মেধাবী ছেলে, দেখবে

একদিন অনেক নাম করেছে। দেখতে হবে না কাদের ভাগনে।’ “শৌভিক কে নিয়ে মহা চিন্তে আছো, তাই না! নিজের ছেলে-মেয়ের

লেখা-পড়ার কোনো খোঁজ রাখ। জত্ত.. সব…!’ বাবার মুখে তাঁর কথাগুলো গুরুত্বহীন ভাবে পড়ে রইলো। আম্মু দ্রুত তাঁর নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দুপুরে খালা-মনি আম্মুকে ফোন করেন,

‘লতা! আজ বিকেলে আমাদের বাসায় অবশ্যই আসবি। তোর দুলাভাই পাবনের জন্য মেয়ে দেখেছেন।’

বিকালে তনুকে সঙ্গে করে আম্মু খালা-মনিদের বাসায় যায়। বাবা বাইরে কাজে ব্যস্ত আর শৌভিক ভাইয়া আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আমি বাসায় একা!(কিশোরী কন্যা)

বিকেলে টিভি দেখতে আর ইচ্ছে হচ্ছে না। ঘর দিয়ে একটু হাঁটাহাটি করছি। বোস পড়েছে, আমি আমার রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ চা পানকরতে হচ্ছে। চলে যাই রান্না ঘরে। গ্যাসের চুলা জ্বালাই। ম্যাচের কাঠিতে ধাউ করে গ্যাসের চুলা জ্বলে উঠে। পানি চড়িয়ে দেই।

আমার মনের মধ্যেও যেন আগুন জ্বলছে। ঠিক যেন এই চুলার মত! খালা-মনির টেলিফোনের পর থেকে মাথায় একটা কথাই ঘুরছে। পাবন ভাইয়ার বিবাহ!

সব ফালতু চিন্তা। পাবনের বিবাহ তাতে আমার কী হয়েছে?(কিশোরী কন্যা)

বড় একটি মধ্যে করে চা নিয়ে আমি বারান্দায় যাই। একটি চেয়ার নিয়ে বসি। দূর আকাশে তাকাই। দূরের বাড়িগুলোর ছাদে ছেলে-মেয়েরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুড়ি উড়াচ্ছে। কেউ বা লেছে আবার কেউ কাপড়-চোপড় নিতে এসেছে। মাথা ব্যথা! চোখ বুঝতে পারছি না। এমন সময় কলিং বেল বাজচ্ছে! আমি দৌড়ে গিয়ে দরাজাটা খুলি।

‘ও’ আপনি! আজ যে এত তাড়তাড়ি বাসায় ফিরলেন।’ মাথা ব্যথা করছে। জ্বর জ্বর বোধ হচ্ছে!”

তিনি এই বলে কক্ষে চলে যান। আমি এক কাপ চা নিয়ে যাই। কক্ষে প্রবেশের পূর্বে দরজার কড়া নাড়া দিয়ে বলি, ‘ভিতরে আসতে পারি।’

‘আসুন।’ ‘আচ্ছা, তবে.. আমাকে আসুন বললেন। আমি আবার আপনার বড়

হলাম কবের থেকে।(কিশোরী কন্যা)

‘দেখ, সাহানা। নানা ধরণের, নানা বয়সের মানুষের সাথে চলাচল করতে হয় তাই কাকে কখন কী বলি খ্যাল থাকে না। তো কী প্রয়োজন বলো?’ ‘বাহঃ রে! আপনার কাছে শুধু প্রয়োজনেই আসতে হবে। এমনিতে কী আসতে পারি না?’(কিশোরী কন্যা)

‘তা ঠিক নয়। তবে প্রয়োজন ছাড়া এভাবে যুবক ছেলের কক্ষে আসা ঠিক

নয়। তাছাড়া, এরকম সুন্দরী মেয়েদেরকে একটু বেছে খুটে চলতে হয়।

মনে কিছু নিয়ো না, একটু মজা করে বললাম!’ ‘এত বেশি না বকে, চা কাপ খেয়ে নিন।

আবারও কলিং বেল বাজছে। বাবা এসেছেন। হাতে কিছু শুকনো বাজার।

সাহানা…সাহানা…! তোমার আম্মু কোথায়?’ ‘আম্মু তো খালা-মনিদের বাসায় গেছেন।’

‘ফিরবে কখন জানো?’

‘হ্যাঁ, রাতে। পাবন ভাইয়া এগিয়ে দিয়ে যাবেন।’

‘তোমার আম্মুর আর বুদ্ধি হলো না। আমাকে তো একটা ফোন দিতে পারত। তাঁর কী আর এদিকে হুশ আছে! বোন ফোন দিলে আর কোন কথা নেই।’

বাবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে, টিভির কক্ষে সোফায় বসে তাঁর জরুরি কাগজ-পত্রে চোখ বুলাচ্ছেন আর সংবাদ দেখছেন।

ইতোমধ্যে, পাবন ভাইয়া আম্মু আর তনুকে নিয়ে বাসায় পৌঁছেছেন। আম্মু পোশাক পরিবর্তন করছেন। পাবন ভাইয়া রিমুট নিয়ে টিভি দেখছেন। বাবা এখনও সংবাদপত্র পড়ছেন আর পাবন ভাইয়ার চাকরি-বাকরির খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। আম্মু খাবার-দাবার ডাইনিং টেবিলে রেখে সবাইকে ডাকছেন। সবাই টেবিলে খেতে এসেছে।(কিশোরী কন্যা)

আমাকেও বার বার ডাকছেন। আমি বলি, ‘আমার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে, পরে খাবো।

সকলের খাওয়া শেষে বিশ্রাম নিচ্ছে আর চা পান করছে। এর মধ্যে পাবন ভাইয়া বলেন, খালা-মনি আমাকে উঠতে হবে। রাত হয়ে যাচ্ছে। আর.. কই, সাহানা যে এলো না। ওর কী শরীর ভীষণ খারাপ।’ আম্মু আমাকে ডাকেন, “সাহানা… সাহানা..! এদিকে এসো, তোমার ভাইয়া চলে। যাবেন।”

আমি অনিচ্ছা শর্তেও উঠে আসি! পাবন ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলি,(কিশোরী কন্যা)

‘শুভেচ্ছ রইল।’ ‘কিসের, শুভেচ্ছে?’

‘কেন? আপনার বিবাহের!

‘পাগলামী হচ্ছে, তাই না! পাগলামী! আজ্ঞে এখনও বিবাহ করিনি, করতে যাচ্ছি। আর, তোমাকে ছাড়া বিবাহ করে ফেললাম, তা ভাবলে কী করে? যাহোক, তোমার ভাবিকে কিন্তু বউ সাজানোর দায়িত্বটা তোমারই।’ ‘এ নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। সাজাবো! অনেক সুন্দর করে!

একেবারে পরীর মতন!’

→ পাবন ভাইয়া চলে যায়। তাঁর মুখে খুশির ঝলক দেখতে পাই। বিবাহের খুশি! কক্ষের লাইট বন্ধ করে দেই। কিছু সময় শুয়ে থাকি আবার ঘুম থেকে উঠে কিছু দানা পানি মুখে দেই। বাসার সবাই ঘুমুচ্ছে। রাত একটা বাজে!

চোখে ঘুম আসছে না। কেন ঘুম আসছে না তাও বুঝছি না। বিছানা থেকে উঠি। আবার লাইট জ্বালাই। ড্রয়ার থেকে কালো ডাইরি নেই সাথে নীল রংঙের কলম। বিছানায় উপুড় হয়ে লিখতে থাকি । মনে যা আসছে! লিখতে লিখতে হঠাৎ ঘুমিয়েও পড়ি। সকালে বাবা ডাকছেন।

সবকিছু গোজ-গাজ করে দরজা খুলি। এভাবে চলে গেল বেশ কয়েক দিন।

-এই তো আগামী কাল বৃহস্পতি পাবন ভাইয়ার বউকে পরাতে যেতে আমি, ভইয়ার ফুপাতো বোন জলি, এই জন বাড়িতে যাব। হদুল পরতে হবে। আমি কখনো শাড়ি ভাইয়া

1 thought on “কিশোরী কন্যা – মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২১”

  1. Pingback: কিশোরী কন্যা – মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২৩ - Bongo Education

Leave a Comment