কিশোরী কন্যা – মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২২

(কিশোরী কন্যা)রকম প্রশংসা যেকোনো জন্য আনন্দের। বস্তুত আমরা মেয়েরা একটু বেশি প্রসংশা শুনতে পছন্দ করি। জানি কেন এই ক্ষতের সৃষ্টি করছে। শুনে হাসি অন্তরে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলি!

শুক্রবার।

বাড়িটি অতি সজ্জিত হয়েছে। ব্যান্ড পার্টি বাঁশি বাজাচ্ছে। বাঁশিতে ফুটে উঠছে সন্ধ্যায় আসি নতুন নিয়ে! অতিথিরা চা-কফি খাচ্ছেন আর খাওয়া দাওয়ার করছেন। কেউ বউয়ের জলি আটকে বসে ভাবির কাছে। বলছি, ফি দিয়ে দেন ভাই! ভাবি অপেক্ষা(কিশোরী কন্যা)

করছেন। কষ্ট পাচ্ছে বেচারী!”

কিশোরী কন্যা – মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২২
কিশোরী কন্যা – মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২২

কিশোরী কন্যা

যাহোক জীবনে আনন্দ হোক চাই বেদনা! দিন-রাত চলে তার আপন গতিতে। করছেন থেমে থাকে না সময় টিক টিক করে চলতে থাকে। এই তো খালামনিদের বাসায় আসতে না আসতে পাবন ভাইয়ার বিবাহ অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেল। সামনে পরীক্ষা আর সকালে বাবারও একটু ব্যস্ততা আছে তাই তিনি আম্মুকে আজই বাসায় ফিরে যেতে বললেন। খালামনি কিছুতেই আমাদের আসতে দিতে চাচ্ছিলেন না। অবশ্য আমারও বাসায় ফিরতে ইচ্ছে হচ্ছিল না।

বাবা বলেছেন তাই আর থাকা হল না। বালা মনিদের বাসা থেকে আমাদের বাসা বেশি দূরে না হওয়ায়, বাবা আমাদেরকে রাতেই বাসায় নিয়ে আসলেন। সারা দিন বেশ হাঁটা-হাটি করা হল, এখন হাত-পা ব্যথা করছে। মুখ থেকে মেকাপ উঠিয়ে, বিছানায় যাই। বার বার পাবন ভাইয়ার চাঞ্চাল্যতার কথা মনে পড়ছে।

ভাবছি বেচারাকে কেন এত অগছন্দ করতাম! হোক না একটু কালো, আড্ডবাজ! মনটা তো বেশ সাদাসিধে। বুঝছি না আজ ক’দিন আমার কী হয়েছে? রাতের স্বপ্নগুলো কালো ভুতুড়ে মনে হচ্ছে। কোথায় গেল আমার সেই স্বপ্নের রঙিন পৃথিবী! এই অদ্ভুত ভাবনাগুলো আমাকে কেন বার বার বিতাড়িত করছে!

আরো পনেরো দিন পরে, আমরা পাবন ভাইয়াদের বাসায় বেড়াতে যাই। লিলি ভাবি, অর্থাৎ পাবন ভাইয়ের বউ আমাদের বেশ খাতির দারি করছেন। বিবাহের মেহেদিতে হাতটা এখনও রঙিন হয়ে আছে। মনেহয়, রঙিন কোমল এই হাতটির স্পর্শে, পাবন ভাইয়া একেবারে মুগ্ধ হয়ে

আছেন। আর এটা তো অস্বাভাবিকও কিছু নয়। বিবাহের পরে বদলে যায় এরকম(কিশোরী কন্যা)

অনেক আওরা ছেলের জীবন। নারী হচ্ছে পুরুষের জীবনের রশ্মি। সে তার রশ্মি দিয়ে বদলে দিতে পারে হাজারো পুরুষের জীবন। শুধু যে পুরুষের জীবন তা নয়, সে চাইলে তার পরশে পুরো পৃথিবই বদলে যেতে পারে। অবশ্য আমার এ কথা একটু বেশিও হয়ে যেতে পারে। নিজে মেয়ে হয়ে নিজেদেরই জয়গান গেয়ে ফেললাম। চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছি আর কৌতুক ছলে বলছি,(কিশোরী কন্যা)

‘মিষ্টি ভাবির হাতের চা তো অতি সুস্বাদু! মনে হচ্ছে চায়ে মিষ্টির পরিমাণ একটু বেশি হয়েছে। ভাবি, আপনার হাতের ছোঁয়া লাগলেই চা মিষ্টি হয়ে যায়, অতিরিক্ত চিনির প্রয়োজন হয় না।’

‘তাই… নাকি! বাহঃ বেশ পাকা কথা বলতে জানো দেখছি। তোমার ভাইয়া তো আমাকে এ কথা বলেন নি! ভাইয়া বললেন, ‘দেখতে হবে না বউ’টা কার! এভাবে কিছু সময় ধরে রং-তামাসা করছি।

‘দেখ ভাবি, আমাকে আবার তোমার সতিন-তটিন ভেবো না। মাঝে মধ্যে কিন্তু এভাবে বিরক্ত করব। আর আমার যাকে পছন্দ হয় তার সাথে একটু বেশি কথাই বলি।(কিশোরী কন্যা)

‘ও… মা! তা ভাববো কেন? তুমি আমারও বোন! তাছাড়া তোমার জন্য বর-টর তো আমাকেই খুঁজতে হবে! একদম চিন্তা করবে না, ভালো পাত্র খুঁজে রেখেছি। তা….. বোন তোমার কোনো পছন্দ-টছন্দ আছে নাকি? থাকলে, কাউকে না হলেও আমাকে বলতে পার…! খুবই নিরাপদ জায়গা। নির্ভয়ে আস্থা রাখতে পার!’

‘না… ভাবি! ওসব কিছু না। এই একটু মজা করলাম। খালাতো বলো আর চাচাতো বলো তুমিই আমাদের একমাত্র ভাবি! এজন্য তোমার প্রতি আমাদের দাবির পরিমাণ একটু বেশি। ঠিক আছে, ভাবি! আজ উঠতে হবে। ফিরতে বেশ রাত হয়ে যাবে।’

‘না…. না, না, সে কী করে হয়! আজ আমাদের এখানে থাকবে, রাতে অনেক কথা হবে। গল্প হবে। এত দিন পরে এসেছ!’

যাহোক, খালা-মনিকে বুঝিয়ে আম্মু ভাবতে একটু লাগছে।

ভাইয়ার আমার আগের মতো আগ্রহ নেই। এই কিছু দিন আগেই তো

একটু বেড়াতে আসলে একেবারে পড়ি-মরি হয়ে পড়ত। আজ পেয়ে, শুধুমাত্র দায়সারা গোছে কেমন জানতে চেয়েছেন। দেখ বিয়ের আগে বেড়াতে আসছি পারলে আমাকে বেঁধে রাখে দেয়! দূর ডনাকাটা পরি পেয়েছে।

কেউ আমাকে একটু কম গুরুত্ব দেয় তাহলে নিজের বড্ড রাগ হয়।

হাতের কাছে থাকে তাই ভেঙে ফেলতে ইচ্ছে হয়।

বাসায় ফিরতে ফিরতে আজ পড়ার বারোটা বেজে যায়। টেনশনে আছি আগামীকাল ব্যাচে ম্যাথ পরীক্ষা আছে। খারপ করলে একেবারে আছে! পরীক্ষায় খারাপ করলে স্যার যেভাবে পঁচায় তাতে ইচ্ছে তখনই গাছের সাথে শিকল দিয়ে অবশ্য মৃত্যু কথাটা আমার ভয়ের। আমি(কিশোরী কন্যা)

যদিও আমি আছে। পড়ার টেবিল থেকে বিছানাটা চৌম্বকের ন্যায় আকর্ষণ করছে কিন্তু অংক করে তবেই বিছানায় হবে। গণিতের যে অধ্যায় ভালো বুঝি আর সে অধ্যায়গুলো করতে খুব লাগে তবে যেগুলো বুঝি কিংবা পারি সেগুলো করতে গেলে ইচ্ছে হয় বই ছিড়ে টুকরো টুকরো করে পুড়িয়ে ফেলি। গণিত করতে গেলে সব চিন্তে যে মাথায় তা আর শেষ করা না।

বাবা গো! দু’টার বেশি বাজে। এখন ঘুমুতে গেলে পাড়ার সকল লোক(কিশোরী কন্যা)

আসলেও থেকে

অপেক্ষা করতে হয়নি ঘুমুতে গেলাম আর কখন ঘুমিয়ে পড়লাম

নিজেই না। শুধু মাত্র সকলে পাই বাবা দরজার কড়া নেড়ে

আমাকে ঘুম থেকে ডাকছেন। ঝটপট ঘুম থেকে উঠে গোসল করে স্কুলের জন্য

প্রস্তুত যাই। এখন আমার স্কুলে যাওয়া-আসা আর টিফিন খাওয়া সর্বসমেত

মিলে একশ পঞ্চাশ টাকা বাজেট। বাবা এক সপ্তাহের টাকা আম্মুর কাছে দিয়ে

রাখেন আর প্রতিদিন আম্মুর থেকে যাই।

অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী (কিশোরী কন্যা)পদার্থবিজ্ঞান আর রসায়নে অনেক খারাপ করায় প্রত্যেকেই লেখা-পড়া নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত।

তাই স্কুলে আড্ডাবাজি টা একটু কম হচ্ছে।

তবে এখন আমাদের গল্পের বিষয়টা একটু ভিন্ন রকম!

পূর্বে যে বিষয়টি বলতে বেশ সংকোচ বোধ করতাম, এখন সেটি বলতে এতটা সংকোচ বোধ হয় না। যে কথা শুনলে আগে লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যেত, কিন্তু সে-কথা এখন ভালোই লাগে।

আর বন্ধবীদের কথা কী বলব?

তাদের কারো কারো লজ্জা-শরম বুঝি মঙ্গল গ্রহে পালিয়েছে!

যখন-তখন এক বান্ধবী অন্য বান্ধীকে জড়িয়ে ধরে।

ইদানিং আমাদের অনেকে তো এতই আবেগী যে, পশ্চিমা জাতির মতো সকলের সামনে চুমু খেতেও একদম দ্বিধাবোধ করে না।

এ ঘটনা হয়তো বৃদ্ধ গোছের কোনো লোক দেখলে এটিকে কলির যুগ বলে। আক্ষায়িত করতেন। স্কুলের কমন রুমের কথা নতুন করে আর কী বলব?

বড় ক্লাসের আপুরা যে আচারণ করেন তা আমি নিজে মেয়ে হয়েও বলতে পারছি

না। আমি দেখে একেবারে লজ্জায় লাল না হয়ে পারি না। আমার মনে হয়, এ ঘটনাটি যদি কোনো পুরুষ প্রজাতি দেখত তবে, সে নিশ্চিত

বুধ গ্রহ থেকে টিকিট কেটে বৃহস্পতি হয়ে সোজা শুক্র গ্রহে পৌঁছে যেত!

আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে, তাই বলে আমরা যে নিজে কে সামলে

রাখব না, বিষয় টি এরকমও হওয়ার কথা নয়! আর এটা-ই কি হওয়া উচিত?(কিশোরী কন্যা)

যাহোক, যুগের পরিবর্তন বলে কথা। তাই আমার আর এই বিষয়ে খুব বেশি

উকালতি করা ঠিক হবে না। আমাদের জীবন পরিবর্তন হয়, ঋতুর মতো!

কখনো শীত, কখনো বসন্ত আবার কখনো বা গ্রীষ্ম কাল।

জানি না কোন ঋতু চলছে আমার মনের মধ্যে। তিন দিন হলো শৌভিক ভাইয়ার জ্বর। বাসায় পড়ে আছেন।

আজ টিফিন পিরিয়োডে মনটা একদম ভালো নেই। কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। উনার কথা খুব মনে পড়ছে।

Leave a Comment