কিশোরী কন্যা – মাফিজুল ইসলাম পর্ব -২৫

(কিশোরী কন্যা)মন্টু মামার চটপটির দোকান!

বলতে পারেন ছাত্র-ছাত্রীদের একান্ত আড্ডা খানা। আমি আর অন্যকে কি বলব নিজেই যেন ঐ দোকানের প্রেমে পড়েছি। ওখান থেকে টিফিনে কিছু খাওয়ার জন্য আমার ব্যাগে কিছু টাকা জমিয়ে রাখি। চটপটি ফুচকার কথা না হয় দূরে সরিয়ে রাখলাম, মন্টু মামার তেঁতুলের চাটনি বড়ই অসাধারণ। আমি ইহার কথা ভাবতেই জিভে জল চলে আসে।

কিশোরী কন্যা মাফিজুল ইসলাম পর্ব-২৫
কিশোরী কন্যা মাফিজুল ইসলাম পর্ব-২৫

(কিশোরী কন্যা)

ফুচকার সাথে এক বাটি চাটনি দিলে আমি আরো দু’বাটি চেয়ে নেই। আজ আমরা ক্লাসেই প্ল্যান করেছি যে, টিফিনে আমাদের মাঝে ঝাল খাওয়ার প্রতিযোগিতা হবে। দেখা যাবে, আমরা চটপটিতে কে কত ঝাল খেতে পারি। আমি তিথি আর অনামিকা কে বলি, ‘দেখ দোস্ত! আমি কিন্তু তোদের সাথে এই ঝাল প্রতিযোগিতায় নেই। আমি খুব বেশি ঝাল সহ্য করতে পারি না।’ তবে তিথি আর অনামিকা তাদের বাজি ছাড়তে রাজি নয় তারা দু’জনে খুব বেশি ঝাল দিয়ে চটপটি নিয়েছে আর আমি ফুচকা!

মন্টু মামার দোকানের পিছনে একটি সংযুক্ত কক্ষ আছে। আপাতত সেখানে(কিশোরী কন্যা)

কোনো চেয়ার ফাঁকা নেই। তাই আমরা দোকানের সামনে গাছের নিচে বসেছি। তিথি, অনামিকা সঙ্গে পানির গ্লাস নিয়ে বসেছে ঝাল খেতে খেতে যদি বাইচান্স তাদের মুখের মধ্যে আগুন লেগেই যায় তবে এই পানি দিয়ে নিভাবে। ফুচকা খাওয়ার সময় কেন যেন আমার দৃষ্টি পূর্ব দিকে চলে যায়। সেদিকে

তাকিয়ে আমি রীতিমত চমকে যাই। নিজের দিকে তাকিয়ে বলি, ‘আমি তো আবার স্বপ্ন দেখছি না তো!’

আমাদের দিকে তিন জন যুবক ছেলে অগ্রসর হচ্ছে। তদের এক জন কে দেখতে ঠিক শৌভিক ভাইয়ার মত।

না… না..! শৌভিক ভাইয়া হতে যাবেন কেন? আমদের বেশ কাছে আসলে আমি নিশ্চিত হই আর মনে মনে বলি – শৌভিকমন্টু মামার দোকানের পিছনে একটি সংযুক্ত কক্ষ আছে। আপাতত সেখানে(কিশোরী কন্যা)

ভাইয়ার মত নয়, এ দেখি শৌতিক ভাইয়া! “কি, আমাকে দেখে চমকে গেলে! না, আমি ভুতটুত নই… তিনি এই বলে আমার প্লেট থেকে একটি ফুচকা নিলেন।

“যাহ! চমৎকার স্বাদ। আর এই নাকি তোমার মন্টু মামার দোকান। আর…. তুমি… অনামিকা…তুমি তিথি!’ আস্সালামু আলাইকুম, ভাইয়া, তিথি ও অনামিকা দু’জনে এক সাথে সালাম

জানো, তোমাদের কথা সাহানা এ দু-বছরে এত বার বলেছে যে

তোমাদের ইমেজ পর্যন্ত মুখস্ত হয়েগেছে তাই আর নতুন করে পরিচয়

করিয়ে দিতে হয় নি।…..এই হচ্ছে সুজন, আমার বন্ধু! ও ভালো ছাবি

জাঁকতে পারে।……আর এই ভদ্র লোক হচ্ছেন নাজমুল, আমার বন্ধু!মন্টু মামার দোকানের পিছনে একটি সংযুক্ত কক্ষ আছে। আপাতত সেখানে(কিশোরী কন্যা)

তাঁরও কিন্তু খুব সুনাম আছে। সে ভালো কবিতা লিখতে পারে।’ আমি শৌভিক ভাইয়ার বন্ধুদের সালাম দেই। তাঁকে দেখে আমার পরাণের পানি যেন শুকিয়ে যায়। আমি কখনো ভাবতে পারিনি মন্টু মামার দোকানের পিছনে একটি সংযুক্ত কক্ষ আছে। আপাতত সেখানে(কিশোরী কন্যা)যে তিনি সত্যি সত্যি চলে আসবেন। আমি বড়ই ইতস্ত হয়ে পড়ি! কি জিজ্ঞেস করব? কিভাবে জিজ্ঞেস করব? – কিচ্ছুই ভেবে পাচ্ছি না।

তিথি আর অনামিকা ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে তাকিয়ে তিন জনকে দেখছে। ভাইয়ার বন্ধুদেরকে আমি আর তেমন কিছু বলতে পারলাম না, একে আমি ভীষণ লজ্জা পাচ্ছি অন্যদিকে টিফিনের সময়ও প্রায় শেষ। ও ইতোমধ্যে ঘণ্টাও পড়ে

গেছে। আমাদেরকে তাড়াতাড়ি বিদায় নিতে হবে।

আমাদের সকলের টিকিনের খরচের ভার ভাইয়া অতিশয় নিজ কাঁধে তুলে নেন। মন্টু মামা কে ফুচকা-চটপটির বিল পরিশোধ করে শৌভিক ভাইয়া আমার দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন যেন তার মনের মধ্যে বুঝি কোন অসমাপ্ত কথা রয়ে গেছে। তিনি হয়ত অনেক প্রত্যাশায় নিয়ে এখানে এসেছেন যে আজ হয়ত কোন কিছু একটা বলে তিনি বীরের ভূমিকা পালন করবেন। কিন্তু আমার কাছে মনে হলো, তার এই অব্যক্ত কথা তার মাঝেই অস্ফুট রয়ে গেল। মানুষের মন থেকে থেকে বড় চপল হয়ে যায় কিন্তু বাস্তবতার কাছে এলে এটি অসহায় হয়ে পড়ে। শৌভিক ভাইয়ার অপ্রত্যাশীত আগমনে মনের মধ্যে নানা কথা আসাটা স্বাভাবিক। ইতিবাচক নেতিবাচক উভয় বিষয়ই আমাকে নাড়া দিচ্ছে। শ্রেণি কক্ষে ফেরার পথে তিথি আর অনামিকা আমাকে একেবারে ছাই দিয়ে ধরেছে।

তাই তো বলি….. অনামিকা! আমাদের সাহানা এত ভদ্র কেন। কারণ তার তো মুটামুটি সেটেল।

“তোদের সাথে এই কারণেই ঝগড়া লাগে। তোরা ই-তো আমাকে ভাইয়া কে এখানে নিয়ে আসতে বলেছিলি। আমি জানি তিনি অনেক ব্যস্ত থাকেন। এই ব্যস্ততার মধ্যেও যেন তিনি এখানে আসবেন আমি এখনও ভাবতে পারছি না।’

“তা, আমরা জানি। প্রেমের টান বড় কঠিন টান।’ ‘আচ্ছা তোরা যা বুঝেছিস, তাই ঠিক। এবার বল, কেমন লাগল?’মন্টু মামার দোকানের পিছনে একটি সংযুক্ত কক্ষ আছে। আপাতত সেখানে(কিশোরী কন্যা)

‘ফুচকা কেমন হয়েছে তা বলতে পারছি না কারণ ফুচকা তো তুই খেয়েছিস। আর আজকের চটপটি টা ওয়াছাম। আমাদের একদম ঝালও লাগছে না কারণ……. ‘কারণ… ছাই! তোদের কি ফুচকা-চটপটির কথা বলছি?’মন্টু মামার দোকানের পিছনে একটি সংযুক্ত কক্ষ আছে। আপাতত সেখানে(কিশোরী কন্যা)

‘ও’ তোর ভাইয়াদের! তাহলে এক এক করে ই বলি – সুজন, তিনি চিত্রকর। বেশ ভালো তবে সঙ্গে ছবি আনেন নি তাই বলতে পারছি না তিনি কেমন ছবি আঁকেন। কিন্তু তাঁর এত লম্বা লম্বা চুল দেখে আমার একদম ভালো লাগেনি। এবার নাজমুল, তিনি কবি এই তো! কেমন কবিতা লিখেন তা আমার জানা নেই কারণ তাঁর কবিতা আমি পড়ি নি। আর কবিতা আমার খুব একটা ভালো লাগে না। তিনি যে এই গরমের মধ্যে পাঞ্জাবি পরেছেন তাতে আমার একদমই ভালো লাগেনি। এবার আসা যাক শৌভিক ভাইয়া প্রসঙ্গে। তাঁর সম্পর্কে তো আর খুব খারাপ কিছু বলা যাচ্ছে না কারণ তাঁর প্রেমিকা এখন আমাদের সামনে। ‘আবারও…’

‘না….. না…! তুমি কোনো কথা বলবে না..! তিথিকে বলতে দাও।’ ‘হ্যাঁ, যা বলতে ছিলাম সাহানার বুদ্ধি আছে। কোথায় আমরা বেয়াড়া ছেলে পছন্দ করি সেখানে সে শৌভিকের মতো ভদ্র ছেলেকে মন্টু মামার দোকানের পিছনে একটি সংযুক্ত কক্ষ আছে। আপাতত সেখানে(কিশোরী কন্যা)পছন্দ করেছে। ভালো….. বেশ… ভালো। আমার দাদি বলতেন- ভদ্র ছেলেরা সংসারিক হয় আবার বউয়ের কথাও শোনে। সে ক্ষেত্রে তোকে একশ তে একশ দেওয়া যায়।

ওদের দু’জনের সাথে আজ অব্দি কথা বলে জিততে পারিনি সুতরাং আজও জিতার কথা নয়। আর অল্প সময়ের মধ্যে কত বিতর্কই করা যায়। শিক্ষক এসেছেন। ক্লাসের শিক্ষার্থীরা এখনও পাখির মত কিচিরমিচির করছে। তিনি সকলকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। টেবিলের উপর বেত দিয়ে বার বার শব্দ করছেন। কিছু সময়ের মধ্যে সকলের মুখের কথা হারিয়ে যায়। মার্চ মাস। বেজায় গরম পড়েছে। আকাশে মেঘ নেই! বৃষ্টি নেই!

চারিদিক যেন তৃষ্ণনায় শুকিয়ে গেছে। আমার ভিতর টাও যেন ঠিক এরকম শুকিয়ে গেছে। স্কুলে তিথি আর অনামিকা শৌভিকের কথা বলে বলে আমার কান বয়রা করে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে আমি একান্ত বসে তার কথাই ভাবি। অনেক দিন হলো লেখা-পড়ার চাপে শৌভিক ভাইয়া আমাদের বাসায় আসছে না। আম্মুও কয়েক দিন ধরে তাঁর কথা বলছেন। আমারও তাঁকে দিয়ে বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। ভাবছি এবার এলে আমি ফিজিক্স আর হায়ারম্যাথের কিছু গাণিতিক

সমস্যার সমাধান করাব।মন্টু মামার দোকানের পিছনে একটি সংযুক্ত কক্ষ আছে। আপাতত সেখানে(কিশোরী কন্যা)

বাবা ইদানিং একটু ব্যস্ত আছেন। আমার দাদি অর্থাৎ বাবার চাচি অসুস্থ। তাঁকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। সেদিন আম্মুর সাথে গিয়ে তাঁকে দেখে এলাম। একেবারে যাই যাই অবস্থা! হাসপাতালে তাঁর সকল আত্মীয়-স্বজন আসছেন। তাঁকে দেখে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন।মন্টু মামার দোকানের পিছনে একটি সংযুক্ত কক্ষ আছে। আপাতত সেখানে(কিশোরী কন্যা)

মানুষের মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তগুলো খুবই করুণ এবং এটি বড়ই আজব। তাঁর ভিতরের যন্ত্রণাটা কাউকে বুঝানো কোন ভাষা নেই। তিনি শুধু অসহায় দৃষ্টিতে এক এক করে সকলের দিকে তাকাচ্ছেন। মন্টু মামার দোকানের পিছনে একটি সংযুক্ত কক্ষ আছে। আপাতত সেখানে(কিশোরী কন্যা)এ সময় যেন সকল আপন জনও পর হয়ে যায়। বোধহয় তাঁর সন্তানকেও চিনতে কষ্ট হচ্ছে, ভিড়ের মাঝ থেকে কেউ উঁচু গলায় বলছে – এই তোমার ছোট মেয়ে এসেছে। কেউ বা চামচে করে মুখে দু’বিন্দু পানি পুরে দিতে ব্যস্ত। তিনি তাকিয়ে আছেন নির্বাক দৃষ্টিতে মৃত্যুর সেই শেষ ভেলাটার দিকে!

Leave a Comment